একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বৈচিত্র্য তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন রাষ্ট্র সেই ব্যবস্থার প্রতিটি ধারাকে সমান গুরুত্ব ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করে। বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা একটি বিস্তৃত ও জনপ্রিয় শিক্ষাধারা। যেখানে লাখো শিক্ষার্থী দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে পড়াশোনা করছে, সেখানে পুরো দেশে সরকারি আলিয়া মাদরাসার সংখ্যা মাত্র তিনটি। যা শিক্ষার সামগ্রিক বাস্তবতার সঙ্গে চরম সামঞ্জস্যহীন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আটটি বিভাগে সরকারি আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা বা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। তবে জাতীয়করণের মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট নীতিমালা, টেকসই পরিকল্পনা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন।
শিক্ষা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাত শতাধিক সরকারি কলেজ এবং প্রায় সাতশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অথচ এমপিওভুক্ত ৮ হাজার ২২৯টি মাদরাসা এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর বিপরীতে সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাত্র তিনটি। এই স্বল্পতা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় শিক্ষাধারায় সরকারি সুযোগ-সুবিধার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
আলিয়া মাদরাসা কেবল ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র নয়; বর্তমান শিক্ষাক্রম অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান অর্জন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিদ্যায়ও তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যাচ্ছে। ফলে এই বিশাল শিক্ষাধারাকে জাতীয়করণের আওতায় এনে সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা এখন সময়ের পরিচ্ছন্ন দাবি।


























