গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, ডলারের দাম বৃদ্ধি, চড়া সুদহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশে বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন বা কারখানা সম্প্রসারণের চেয়ে পুরনো ঋণ ও দায় পরিশোধে ব্যবসায়ীরা প্রাধান্য দেওয়ায় ব্যাংকঋণের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.১৭ শতাংশে, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৪.৭৫ শতাংশ। জুনে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪৭ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ছিল ৪.৬২ শতাংশ। সব মিলিয়ে টানা সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধির চিত্র লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে। ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল প্রায় চার লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকারদের মতে, প্রকাশিত ঋণ প্রবৃদ্ধির পুরোটা নতুন ঋণ বিতরণের প্রমাণ দেয় না। অনাদায়ি সুদ মূল ঋণের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিংবা পুরনো দায় পরিশোধের জন্য নতুন ঋণ তৈরির বিষয়গুলোও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে প্রকৃতপক্ষে নতুন ঋণের প্রবাহ আরও কম।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সম্প্রতি এক ব্যাংকিং সম্মেলনে বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানোর চেষ্টা চললেও নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন বাড়াতে ব্যবসায়ীদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ চাঙ্গা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে, যার মধ্যে বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে এ তহবিল থেকেও ঋণ বিতরণের গতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ধীর।





















