Dhaka ০২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে টয়োটা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করছে জাপানের বিশ্বখ্যাত ও শীর্ষস্থানীয় মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। বহুল প্রতীক্ষিত এই শিল্প উদ্যোগটি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের অটোমোবাইল শিল্প খাতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ যেমন বহুগুণ জোরদার হবে, ঠিক তেমনি উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত এই বিশাল শিল্পায়নের প্রাথমিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মোট দুটি অত্যাধুনিক ‘থ্রি-এস’ (অর্থাৎ গাড়ি বিক্রয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহ) কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ মূলধন বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি নভেম্বর মাসেই এই কেন্দ্র দুটির মূল অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নবনির্মিত এই কেন্দ্রগুলো থেকে কেবল গাড়ি বিপণন বা বিক্রিই করা হবে না, বরং এর পাশাপাশি সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির মেরামত এবং বিশ্বমানের আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের সম্পূর্ণ সমন্বিত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে। মূলত এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মূল বাজারে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতির দুর্দান্ত সূচনা ঘটতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা হলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের চূড়ান্ত ও উৎপাদনমুখী পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

টয়োটার এই সুদূরপ্রসারী সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে দেশের সাধারণ ভোক্তা এবং বাণিজ্যিক অঙ্গনের বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, দেশে স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজনের এই প্রক্রিয়া চালু করা গেলে মোটরযান আমদানির উচ্চ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। এর ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের চমৎকার সুযোগ পাবেন এবং নির্ভরযোগ্য আসল যন্ত্রাংশ ও দক্ষ বিক্রয়োত্তর সেবা অত্যন্ত সহজলভ্য হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশীয় বাজারে এই জাপানি ব্র্যান্ডটির প্রতি ক্রেতাদের আস্থাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

দেশের উদীয়মান শিল্প খাতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, টয়োটার এই সাহসী বিনিয়োগ স্থানীয় খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, সহযোগী ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তিগত দক্ষ জনশক্তির জন্য এক অবারিত সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। নিজস্ব মেধা ও কারিগরি দক্ষতার সঠিক বিকাশ ঘটিয়ে এই উদ্যোগটি দেশের মাটিতে একটি সম্পূর্ণ আধুনিক অটোমোবাইল শিল্প খাতের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করবে এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য বৈশ্বিক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

তিনি আরও অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশে উৎপাদিত এসব গাড়ি কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করাই নয়, বরং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হবে। তবে এই বিরাট সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় শুল্ক ও কর প্রণোদনা এবং একটি সহায়ক পশ্চাৎপদ শিল্পের দ্রুত বিকাশ সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস তৈরি করবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকে আরও অনেক বেশি সুদৃঢ় করবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে টয়োটা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করছে জাপানের বিশ্বখ্যাত ও শীর্ষস্থানীয় মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। বহুল প্রতীক্ষিত এই শিল্প উদ্যোগটি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের অটোমোবাইল শিল্প খাতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ যেমন বহুগুণ জোরদার হবে, ঠিক তেমনি উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত এই বিশাল শিল্পায়নের প্রাথমিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মোট দুটি অত্যাধুনিক ‘থ্রি-এস’ (অর্থাৎ গাড়ি বিক্রয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহ) কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ মূলধন বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি নভেম্বর মাসেই এই কেন্দ্র দুটির মূল অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নবনির্মিত এই কেন্দ্রগুলো থেকে কেবল গাড়ি বিপণন বা বিক্রিই করা হবে না, বরং এর পাশাপাশি সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির মেরামত এবং বিশ্বমানের আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের সম্পূর্ণ সমন্বিত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা হবে। মূলত এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মূল বাজারে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতির দুর্দান্ত সূচনা ঘটতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা হলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের চূড়ান্ত ও উৎপাদনমুখী পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

টয়োটার এই সুদূরপ্রসারী সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে দেশের সাধারণ ভোক্তা এবং বাণিজ্যিক অঙ্গনের বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, দেশে স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজনের এই প্রক্রিয়া চালু করা গেলে মোটরযান আমদানির উচ্চ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। এর ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের চমৎকার সুযোগ পাবেন এবং নির্ভরযোগ্য আসল যন্ত্রাংশ ও দক্ষ বিক্রয়োত্তর সেবা অত্যন্ত সহজলভ্য হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশীয় বাজারে এই জাপানি ব্র্যান্ডটির প্রতি ক্রেতাদের আস্থাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

দেশের উদীয়মান শিল্প খাতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, টয়োটার এই সাহসী বিনিয়োগ স্থানীয় খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, সহযোগী ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তিগত দক্ষ জনশক্তির জন্য এক অবারিত সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। নিজস্ব মেধা ও কারিগরি দক্ষতার সঠিক বিকাশ ঘটিয়ে এই উদ্যোগটি দেশের মাটিতে একটি সম্পূর্ণ আধুনিক অটোমোবাইল শিল্প খাতের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করবে এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য বৈশ্বিক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

তিনি আরও অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশে উৎপাদিত এসব গাড়ি কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করাই নয়, বরং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হবে। তবে এই বিরাট সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় শুল্ক ও কর প্রণোদনা এবং একটি সহায়ক পশ্চাৎপদ শিল্পের দ্রুত বিকাশ সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস তৈরি করবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকে আরও অনেক বেশি সুদৃঢ় করবে।