তারেক রহমানের হাতে মোদীর ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর; বিএনপির সঙ্গে দিল্লির নতুন রাজনৈতিক রসায়ন!
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবনদর্শন ও মূল্যবোধ আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারিত্বের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় এসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ব্যক্তিগত শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দিয়ে জয়শঙ্কর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১ জানুয়ারি ২০২৬ | সকাল ১০:১৫ মিনিট
কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম ভারতের কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ঢাকা সফর করলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি এই সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মোদীর বার্তা
ভারতীয় হাইকমিশন প্রচারিত বার্তায় ড. এস জয়শঙ্কর জানান, ঢাকা পৌঁছানোর পর তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠি তার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছি। আমার বিশ্বাস, বেগম খালেদা জিয়ার দর্শন ও মূল্যবোধ আমাদের অংশীদারিত্বের উন্নয়নে দিকনির্দেশ করবে।”
‘পার্টনারশিপ’ বা অংশীদারিত্বের নতুন ভাষা
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়শঙ্করের বক্তব্যে ‘অংশীদারিত্ব’ (Partnership) এবং ‘দিকনির্দেশ’ (Direction) শব্দ দুটির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে ভারতের যে এক ধরণের ‘দূরত্ব’ ছিল, বেগম জিয়ার প্রয়াণ এবং জয়শঙ্করের এই সফর সেই বরফ গলার বড় ইঙ্গিত। বিশেষ করে তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিঠি পাঠানো এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রতি এক ধরণের পরোক্ষ স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
জানাজায় অংশগ্রহণ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার
জয়শঙ্কর গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজাস্থলে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে বিমানবন্দরে তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলেই তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?
১. নতুন প্রেক্ষাপটে সংযুক্তি: ৫ আগস্ট পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ ভারতের প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।
২. বিএনপির গুরুত্ব স্বীকার: বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে ভারত যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে স্পষ্ট।
৩. আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ বাড়ানোই দিল্লির বর্তমান কৌশল।
















