নববর্ষের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়া। প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই ভাষণে তিনি দেশবাসীকে যুদ্ধরত সেনাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো মূল্যে শান্তি নয়, দুর্বল কোনো চুক্তি তিনি গ্রহণ করবেন না।
বুধবার দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, রাশিয়া তার সৈন্যদের ওপর আস্থা রাখে এবং বিজয়ের বিষয়ে নিশ্চিত। যদিও চলমান লড়াই ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার কারণে যুদ্ধের পরিণতি এখনো অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনে যুদ্ধরত সেনাদের ‘নায়ক’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এই ভাষণের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক মিলও টানা হয়। আজ থেকে ২৬ বছর আগে নববর্ষের ভাষণেই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন পুতিনের হাতে। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা পুতিন এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন।
নববর্ষের আরেক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তার দেশ শান্তি চায়, তবে তা কোনো মূল্যেই ইউক্রেনের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন ক্লান্ত, কিন্তু আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত নয়। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার প্রায় ৯০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে, তবে বাকি ১০ শতাংশই ইউক্রেন, ইউরোপ এবং ভবিষ্যৎ শান্তির ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে পুতিনের একটি বাসভবনের কাছে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইউক্রেন এই দাবি অস্বীকার করে একে সাজানো ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে, এটি আরও আগ্রাসনের অজুহাত তৈরির চেষ্টা। রাশিয়া দাবি করেছে, ৯১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রাশিয়ার এই অভিযোগ ঘিরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করলে কিয়েভ তাদের সমালোচনা করে বলে, এমন একটি ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে যা আদৌ ঘটেনি। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররাও রাশিয়ার দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস বলেছেন, শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি ব্যাহত করতেই রাশিয়া ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। আহতদের মধ্যে এক শিশু ও দুই কিশোর রয়েছে। হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতে সময় লাগবে।
রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে তাদের বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় তথাকথিত বাফার জোন সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিয়েভ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি ইউক্রেনের ভেতরে আরও গভীর আগ্রাসনের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
















