বাজারভিত্তিক সুদহার চালুর পর কিছু ব্যাংকে আমানত বাড়লেও সেই তুলনায় ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না। ফলে ব্যাংক খাতে ক্রমেই বাড়ছে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ, যা ব্যাংকগুলোকে বিপাকে ফেলছে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না থাকায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড, কলমানি ও অন্য ব্যাংকে আমানত হিসেবে টাকা খাটাচ্ছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু এর পরও বড় অঙ্কের অর্থ উদ্বৃত্ত থাকছে। ফলে এসব ব্যাংক নতুন করে আমানত নিরুৎসাহিত করছে এবং সুদহার মাত্রাতিরিক্ত কমিয়ে দিয়েছে।
অতিমাত্রায় তারল্য থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের, যার পরিমাণ ৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, ৩২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ২৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। আর শীর্ষ পাঁচে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ২৮ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা।
এছাড়া সিটি ব্যাংকের ২৩ হাজার ৯৮৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ২৩ হাজার ৫১৮ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৬৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকের ১৬ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।
জানা গেছে, গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এই ১০ ব্যাংকের কাছেই ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের কারণ।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ঋণ ও আমানতের সুদহার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সরকার পতনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত পাচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা বেশি সুদের চেয়ে প্রয়োজনে টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ভালো ব্যাংকগুলোয় আমানত বাড়লেও সেই অর্থ বিনিয়োগ করতে পারছে না তারা। মূলত গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিনিয়োগের সুযোগ না বাড়লে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য ক্রমশ বাড়তে থাকবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

























