চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), আলিম ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ ধস নেমেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২.১২%, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬.৭১%।
জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও গত বছরের চেয়ে ২৯ হাজার ১৩ জন কমেছে। বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বোর্ড, আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া, পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছেন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইংরেজিতে দুর্বলতা, শ্রেণিকক্ষে শিখন ঘাটতির পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অতিমূল্যায়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার যথাযথ মূল্যায়নের কারণে পাসের হার কমলেও এটাই শিক্ষার প্রকৃত ও বাস্তব চিত্র।
একইসঙ্গে, পাসের হার বাড়াতে শিক্ষার সামগ্রিক মান, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় যেসব সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গতকাল শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
এরপর ফলাফল একযোগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে প্রকাশিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১১ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯,৩৯০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২.১২%। এর মধ্যে ৪৭.৭৫% ছাত্র এবং ৫৬.৩১% ছাত্রী পাস করেছেন।
গত বছর ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন সাত লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। তখন পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩%। ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭.৭৪%। সে হিসেবে এবার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
এবার ১১ বোর্ডে মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ ছাত্রী। গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন।

























