রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক দেনা পরিশোধে সরকারকে বাড়তি স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার মজুত: ডিসেম্বর মাসেও প্রবাসী আয়ে ৩০০ কোটির মাইলফলক, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলে রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রিজার্ভ পরিস্থিতি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের গত কয়েক মাসে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেমিট্যান্সের জোয়ারে রেকর্ড
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনেই দেশে ৩০৪ কোটি (৩.০৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। মূলত গত বছরের আগস্টের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এই সুযোগে বাজার থেকে নিয়মিত ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মঙ্গলবারও সাতটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে মোট ৩১৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। এর ফলে মঙ্গলবার দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। তবে আইএমএফ-এর ‘বিপিএম ৬’ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার।
গভর্নরের পূর্বাভাস ও লক্ষ্যমাত্রা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর শেষে মোট রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল বিদেশি ঋণ নয়, বরং বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই সিদ্ধান্ত।
















