ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে পশু জবাই করার ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা সুনির্দিষ্ট নিষেধাক্সামূলক বিজ্ঞপ্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য (ভিসি) ভবনের পাশে প্রকাশ্যে একটি গরু জবাই করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পূর্ব থেকে নির্ধারিত ‘শুক্রবারের গরুভোজ’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবাদী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপাচার্য ভবন ও গণিত ভবনের মধ্যবর্তী প্রধান সড়কের ওপর এই পশু জবাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আঙিনায় যেকোনো ধরনের পশু জবাই করার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রক্টর দপ্তর হতে একটি বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের মুখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের অর্থায়নে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যে একটি আস্ত গরু ক্রয় করে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত জানান।
পুরো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার (১৪ অক্টোবর)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কারণ দর্শিয়ে প্রক্টর দপ্তর হতে জারীকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে যেকোনো ধরনের পশু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছিল যে, প্রশাসনের প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন নজিরবিহীন ও কঠোর সিদ্ধান্তের পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা সরাসরি ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ কর্মসূচি’ শীর্ষক ভিন্নধর্মী এক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন। এই আয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্যে জনপ্রতি মাত্র ৭০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করে একটি অনলাইন আবেদন লিংক উন্মুক্ত করা হয়।
পরবর্তীকালে একই দিন রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভাস্কর্য চত্বর এলাকায় জকসুর নিজস্ব ব্যানারে শিক্ষার্থীরা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ আহ্বান করেন। উক্ত সমাবেশ হতে প্রক্টর দপ্তরের বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং ক্যাম্পাসে সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি সুনিশ্চিত করা সহ মোট চার দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। একই সাথে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও জোরদার আন্দোলনে নামার হুঙ্কারও প্রদান করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।


























