চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে চলমান বিভিন্ন অনিয়মের দৃশ্য ও ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং তীব্র বাধার মুখে পড়েছেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া দুই স্থানীয় সাংবাদিক। এ সময় এক সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ওই কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অপর এক সাংবাদিককেও নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জেলা পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায় এই অনভিপ্রেত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মচারীর নাম মো. ইমরান হোসেন। তিনি বর্তমানে জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন—এশিয়ান টেলিভিশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হানিফ মেহমুদ এবং বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন জসি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক হানিফ মেহমুদ জানান, পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ পেয়ে তিনি ও তার সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে যান। কার্যালয়ের ভেতরে অনিয়মের বিভিন্ন ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় অফিস সহকারী ইমরান হোসেন আকস্মিকভাবে তাতে বাধা দেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে জোরপূর্বক তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এ সময় তিনি নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত পরিচয়পত্র স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কর্মচারী ফোনটি ফেরত দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোবাইল ফোনটি ফেরত দেন।
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জসি অভিযোগ করে আরও জানান, ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি কার্যালয়ের ভেতরের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি কার্যালয়ের মূল প্রধান ফটক বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্যও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্দেশ দেন। এ সময় তাদের দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ঘটনার দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা পর সহকারী পরিচালকের কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত অফিস সহকারী মো. ইমরান হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সাংবাদিকদের কাছ থেকে এভাবে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়াটা তার কোনোভাবেই ঠিক করা উচিত হয়নি। তবে পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপে ফোন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে জেলা পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় সহকারী পরিচালকের কক্ষে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন রাখা ছিল। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এদিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিটিজেএ) সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, ‘পেশাগত তথ্য সংগ্রহ করা এবং দুর্নীতির চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও পেশাগত অধিকার। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি চরম হস্তক্ষেপ। ওই পাসপোর্ট কার্যালয়ে অতীতেও এমন অনিয়ম ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পেশাগত পরিবেশ সৃষ্টির জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থা ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এ কে এম আবু সাঈদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


























