ফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজ শিশু সামিউলের (৮) লাশ উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে পাকা ফ্লোর কেটে গভীর গর্ত খুঁড়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সামিউল উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশু নিখোঁজের এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছিল পিবিআই। আটককৃতরা হলেন—নয়াকান্দি গ্রামের আলামিন (৩৬), মোস্তফা ফরাজী (৫০), ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) এবং সুজন (৩৭)।
আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের একটি তালাবদ্ধ ঘরে এই অভিযান চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ফ্লোরের ঢালাই কেটে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আল মামুন শাহ এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন নয়াকান্দি গ্রাম থেকে শিশু সামিউল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার চাচা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে তীব্র উদ্বেগ চলছিল। জিডির তদন্তে নেমে পিবিআই সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালায়। তবে রাতভর চেষ্টা চালিয়েও লাশের সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাত ৩টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। ঘটনাস্থলে এ সময় শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করে। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


























