টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর মানসিক নির্যাতনে পারভীন আক্তার (১৯) নামের এক নববধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাঈমুর রহমানের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছলিমনগর খেলার মাঠে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন বয়সী শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে অভিযুক্তের বিচার দাবি করেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ছলিমনগর গ্রামের শাহীন সিকদারের মেয়ে পারভীনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ কনস্টেবল নাঈমুর রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নাঈমুর পরকীয়ায় জড়িয়ে স্ত্রীকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি তিনি পারভীনকে মানসিক নির্যাতন ও তালাকের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। স্বামীর এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে গত বুধবার বিষপান করেন পারভীন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আত্মহত্যার আগে পারভীন চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি রেখে যান, যাতে তাঁর ওপর চলা মানসিক যন্ত্রণা এবং স্বামীর কারণে জীবন ধ্বংস হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে নাঈমুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


























