বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নিশ্চয়তা ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর তৃতীয় দিনে ‘‘লিডারশিপ ইন অ্যান এজ অব আনসার্টেইনটি’’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, পরিবেশগত বিপর্যয়, অর্থনৈতিক সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বিশ্ব আজ এক অনিশ্চিত সময় পার করছে। তবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বর্তমান প্রশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ। যেকোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে। যতদিন তারা এখানে আছেন, ততদিন আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীজনদের সাথে কাজ করছে সরকার। এছাড়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার নানা উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্স্ট কার্ডের পর একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর কাজ চলছে। তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবায় ১ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।
জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বহুমুখী উৎসের সন্ধান করা হচ্ছে এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পারস্পরিক আস্থা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে যেকোনো সংকট জয় করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


























