Dhaka ১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ ও সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত ২ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে সরাসরি বাধা প্রদান, পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়েরকৃত স্পর্শকাতর মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান তিনি। এ সময় কারাফটকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানাতে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত রোববার (১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। তবে হাইকোর্টের সেই জামিন স্থগিতের আরজি জানিয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনটি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। ফলে তাঁর কারামুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি জটিলতা বা বাধা অবশিষ্ট থাকেনি। আদালতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মারাত্মক অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড পর্ব শেষে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুই দফা জামিনের আবেদন বাতিল হলে তিনি জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হজ ও ওমরাহ শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁদের বহনকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে যাত্রীরা লাগেজ ও মালামাল সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত বেল্ট এলাকায় গেলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ট্রলি সংকট ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বিড়ম্বনা তৈরি হয়। লাগেজ পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং পবিত্র জমজমের পানি প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা ঘিরে কতিপয় যাত্রীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

এজাহারে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয় যে, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন ও তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তা ছাড়া বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে প্রহার করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তবে বিভিন্ন সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

জনপ্রিয়

বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে সরাসরি বাধা প্রদান, পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়েরকৃত স্পর্শকাতর মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান তিনি। এ সময় কারাফটকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানাতে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত রোববার (১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। তবে হাইকোর্টের সেই জামিন স্থগিতের আরজি জানিয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনটি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। ফলে তাঁর কারামুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি জটিলতা বা বাধা অবশিষ্ট থাকেনি। আদালতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মারাত্মক অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড পর্ব শেষে গত ৪ অক্টোবর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুই দফা জামিনের আবেদন বাতিল হলে তিনি জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা হজ ও ওমরাহ শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁদের বহনকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে যাত্রীরা লাগেজ ও মালামাল সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত বেল্ট এলাকায় গেলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ট্রলি সংকট ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বিড়ম্বনা তৈরি হয়। লাগেজ পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং পবিত্র জমজমের পানি প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা ঘিরে কতিপয় যাত্রীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

এজাহারে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয় যে, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন ও তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তা ছাড়া বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে প্রহার করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তবে বিভিন্ন সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।