রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে যথাযথ চিকিৎসার অভাব ও চরম গাফিলতির ফলে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তার শোকার্ত পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে কিশোরী মহিমাকে মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ভবন-১-এ জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত মহিমার বাবার নাম মকবুল; তাদের মূল বাড়ি গাজীপুরে হলেও বর্তমানে তারা রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলকলোনি এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
পরিবারের জোরালো অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই মহিমাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এমনকি এই মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো বাড়াবাড়ি না হয়, সেজন্য হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং চাকরির লোভনীয় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে চিকিৎসায় অবহেলার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে কিশোরী মহিমার মৃত্যুর নেপথ্যের সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন এবং হাসপাতালের বক্তব্য নিতে গত রবিবার (৪ অক্টোবর) সংবাদকর্মীরা ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। তথ্য সংগ্রহকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন ও তাদের অনুসারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং শারীরিক হামলা চালান। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুরো ঘটনার সুদূরপ্রসারী ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৪/বি, আউটার সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২১৭ ঠিকানায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল (ভবন-১)-এ, যা শাহজাহানপুর থানার অন্তর্গত। ভুক্তভোগী পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর বিচার এবং সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।


























