জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় অসুস্থ শিশুর জন্য ওষুধ নিতে গিয়ে এক গৃহবধূ চরম লাঞ্ছনা ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকের এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় জনতা ক্লিনিক প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুরমুঠ ইউনিয়নের রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. রাশেদুজ্জামান রিপন ওই ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দুরমুঠ পশ্চিম রুকনাই এলাকার বাসিন্দা এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের ছেলে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, তিনি তার ননদকে সঙ্গে নিয়ে ১১ মাস বয়সি অসুস্থ সন্তানের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করতে ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। সেখানে ওষুধ চাওয়ার পর রাশেদুজ্জামান বিভিন্ন অজুহাতে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে একাধিকবার হাত দেন এবং অশালীন আচরণ করেন। চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্লিনিক ছেড়ে বাড়িতে চলে যান।
বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন ক্লিনিকে গিয়ে জড়ো হন। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান অত্যন্ত কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। দুরমুঠ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি শুনেছেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীর শাশুড়ি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরেই সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন এবং পর্যাপ্ত ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তা সাধারণ রোগীদের না দিয়ে নিজের পছন্দের লোকজনকে দিয়ে থাকেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।


























