উত্তপ্ত রোদের মধ্যে নারীদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত অমানবিক কাজ করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ কোনো ক্ষমতার অনুগ্রহপুষ্ট ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়নি, বরং রাজপথের তীব্র গণআন্দোলন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোলার দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু হানিফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন শাসনামলেও ভোলার মাটি থেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছেন। দেশে বর্তমানে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া জামায়াত দীর্ঘ পথজুড়ে রোদের মধ্যে নারীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নিচ্ছে, যা সামাজিক ও মানবিকভাবে চরম অগ্রহণযোগ্য। কোরআন-সুন্নাহর দোহাই দিয়ে নারীদের এভাবে হেনস্তা করে জামায়াত প্রকৃতপক্ষে কোন ধারার ইসলাম কায়েম করতে চায়—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবির ও কথিত ১১ দলীয় জোটের ঘনঘন রোডমার্চের মতো কর্মসূচি মূলত ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসনের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ। জামায়াতের এসব তৎপরতা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শামিল উল্লেখ করে দেশবিরোধী এই অপকৌশল রুখে দিতে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। উক্ত সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ভোলা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি আখতারের সঞ্চালনা ও জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্র ও স্থানীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।


























