পপি সিড জব্দের পর কাস্টমস কর্মকর্তার ওপর হামলা, বন্দর ও কাস্টমস হাউজে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দের ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তারা সরাসরি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছেন। পপি সিড জব্দ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এক কর্মকর্তার ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত কয়েক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড, কসমেটিকস, সিগারেট ও ঘন চিনির একাধিক চালান জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। আইনি জটিলতা ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব পণ্য ছাড় করানোর চেষ্টা করলেও শুল্ক গোয়েন্দাদের তথ্যভিত্তিক অভিযানে তা ব্যর্থ হয়।
তবে এসব অভিযানের জেরে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্মকর্তারা। সর্বশেষ পপি সিড জব্দ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপ-কমিশনার আসাদুজ্জামান খানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা কাস্টমস প্রশাসনের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপ-কমিশনার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যেকোনো ধরনের বাধা বা হামলার ঘটনায় কর্মকর্তারা সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাত্র কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এই দুটি স্থাপনা থেকেই বছরে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজস্ব প্রবাহে।
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, একটি বৈধ অভিযানকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের টার্গেট করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যেভাবে সক্রিয় রয়েছে, তাতে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম থেমে যাবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর ও কাস্টমস হাউজ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
সিএমপির উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২৫ মেট্রিক টন পপি সিড, ৩০ কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ১০৪ মেট্রিক টন ঘন চিনি এবং বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। এসব আমদানির পেছনে একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















