সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট মেয়াদে উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের একটি পক্ষ ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার হলেও অন্য পক্ষটি ১১তম গ্রেডের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। দাবির পাশাপাশি আন্দোলনের রূপরেখা ও কৌশল নিয়েও সংগঠনগুলোর মধ্যে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপির নেতৃত্বে তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম বেতন গ্রেড দেওয়া, চাকরির অষ্টম ও চতুর্দশ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর গ্রেড এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হয়রানিমূলক বদলি বাতিল ও বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবির বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং মহাসমাবেশের মতো কর্মসূচি রয়েছে তাঁদের।
অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মাহবুবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বিজয় কর্মকারের নেতৃত্বাধীন অংশটি সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাঁরা চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির পক্ষে জোর দাবি তুলে ধরেছেন।
সংগঠন দুটির নেতাদের মধ্যে কর্মসূচির যৌক্তিকতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এলেও সংশ্লিষ্টরা নিজেদের পেশাগত দাবির বিষয়টিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আন্দোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সমাধান না আসায় শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এদিকে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের বড় ধরনের পদ শূন্য রয়েছে। শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৫ হাজার ৪৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৫৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৫ জন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি দাবির মুখে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্তের প্রহর গুনছেন শিক্ষকরা।


























