১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয়ে আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন বাংলাদেশ
আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বিজয়ের ৫৪তম বর্ষপূর্তি।
আজ ১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি এক অবিস্মরণীয় গৌরবের দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিজয়ের আনন্দে মুখরিত গোটা দেশ। সরকারি-বেসরকারি ভবনে উত্তোলিত হয়েছে জাতীয় পতাকা, চলছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ দোয়া মাহফিল।
দিবসের সূচনায় ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, এবারের বিজয় দিবস জাতীয় জীবনে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকারের দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে নবযাত্রা শুরু হয়েছে, তা রক্ষার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফ্লাই-পাস্ট এবং বিশেষ ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা, শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তবে এবারও জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পৃথকভাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসী আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সেই লাখো শহীদকে, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। এই দিনটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, ঐক্য ও অদম্য চেতনার প্রতীক।
















