চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্যকে সসম্মանում পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই আন্দোলনের ১৫তম দিনে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসের বাইরে নগরীর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ‘ভিসি কে ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আর কে?’, ‘টনক তুমি নড়বে কবে’, ‘চুয়েট সচলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চাই’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান প্রদর্শিত হয়। প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা লিখিত বক্তব্যে জানান যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন এবং গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
শিক্ষার্থীরা জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধ্যাপক সায়েম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। যার মধ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলাবোরেশন অফিস’, ‘রিসার্চ হাব’ ও ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় শিল্পকারখানার সঙ্গে যৌথ গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো অন্যতম। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া তাকে পদ থেকে অপসারণ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চুয়েটের বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা অবিলম্বে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, তাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের স্বার্থ বা সংশ্লিষ্টতা নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জরুরি সেবা, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও নিয়মিতভাবে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও চলমান অচলাবস্থা সম্পর্কে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল আলম সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এর দৃশ্যমান সুফল ও কার্যক্রম দেখা যাবে।


























