উত্তর আমেরিকায় নেটিভ ও ফার্স্ট নেশন পর্যটন দ্রুত বাড়ছে, আর এর অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে বহু প্রাচীন আদিবাসী পথকে আধুনিক সাইকেলিং, হাইকিং ও র্যাফটিং রুটে রূপান্তর। শতাব্দী পুরনো যেসব শিকার ও বাণিজ্য পথ আদিবাসীরা তৈরি করেছিলেন, সেগুলো এখন নানা উপজাতির হাত ধরে পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।
নেব্রাস্কার পনকা উপজাতির ইতিহাস তারই একটি বড় উদাহরণ। ১৮৭৭ সালে জোরপূর্বক ওকলাহোমায় সরিয়ে নেওয়ার সময় পথেই মারা যায় তাদের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। পরে ছেলের শেষ ইচ্ছা পূরণে পনকা নেতা চিফ স্ট্যান্ডিং বেয়ার নেব্রাস্কায় ফিরে আসলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮৭৯ সালের ঐতিহাসিক মামলায় তিনি আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হন যে নেটিভ আমেরিকানরাও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য নাগরিকের মতোই অধিকার প্রাপ্য।
আজ নেব্রাস্কার ২২ মাইল দীর্ঘ চিফ স্ট্যান্ডিং বেয়ার ট্রেইল সেই পুরনো আদিবাসী পথকেই নতুন করে তুলে ধরছে। পনকা উপজাতির মালিকানাধীন এই পথজুড়ে রয়েছে তথ্যবহুল সাইনবোর্ড, যা ভ্রমণকারীদের তাদের ইতিহাস জানায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আদিবাসী পর্যটন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতের বার্ষিক আয় প্রায় ১৫.৭ বিলিয়ন ডলার, আর কানাডায় তা ৩.৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ১৩৫ মাইল দীর্ঘ অলিম্পিক ডিসকভারি ট্রেইল মানুষের ভিড়ে জমজমাট। এটি একসময় বিভিন্ন উপজাতির গ্রামকে সংযোগকারী পায়ে হাঁটার পথ ছিল। এখন ট্রেইলটি জেমসটাউন স’ক্লালাম উপজাতির অঞ্চলের ভেতর দিয়ে গেছে, যেখানে শিল্পগ্যালারি, গ্রন্থাগার ও নদী সংরক্ষণকেন্দ্রসহ নানা সাংস্কৃতিক উপাদান যুক্ত হয়েছে। উপজাতির উদ্যোগে নদীর বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে।
আইডাহোর কোর দ’আলন উপজাতিও তাদের ভূমির ওপর ধীরে চলা পর্যটনকে ঘিরে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের পূর্বপুরুষদের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া পুরনো রেলপথকে রূপান্তর করা হয়েছে ৭২ মাইল দীর্ঘ সাইকেল ট্রেইলে। উপজাতির পরিচালিত রিসোর্ট এখন সাইকেলিং, নৌকাবিহার ও নির্দেশক-নেতৃত্বাধীন হাঁটার আয়োজন করে।
দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে হুয়ালাপাই উপজাতির ভূমিতে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়েস্টও পর্যটকদের জন্য বড় আকর্ষণ। এখানে রয়েছে বিখ্যাত স্কাইওয়াক, জিপলাইন ও সাংস্কৃতিক দূতদের মাধ্যমে উপজাতির ইতিহাস জানার সুযোগ। তবে তাদের সবচেয়ে বড় আয়োজন হলো কলোরাডো নদীতে র্যাফটিং—যে নদী শতাব্দী ধরে বিভিন্ন উপজাতিকে যুক্ত করেছে।
হুয়ালাপাই রিভার রানার্স এখন পর্যটকদের সেই নদীপথে নিয়ে যায়, যেখানে তারা উপজাতির পবিত্র স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারে। উপজাতির সদস্যরা মনে করেন, বহু বছর পর তারা অবশেষে নিজেদের গল্প ভ্রমণকারীদের কাছে নিজেরাই তুলে ধরতে পারছেন।
উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন উপজাতির এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে না, বরং তাদের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস, পথ ও ভূমিকে নতুন করে দাবি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
















