রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীর আবাসিক কক্ষে ভাঙচুর, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি (এইচআরডিএস)। সোমবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে একটি ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্য নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে ৪ অক্টোবর বিকেলে রাবি ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেটে হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে গিয়ে আরিফুল ইসলামের কক্ষে ভাঙচুর এবং রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সদস্য জাহিদ ইসলামের মাথায় আঘাত করা হয়। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মৃদুল ইসলামকে গলা চিপে ধরে মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে।
এইচআরডিএস জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কেন্দ্র। সেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে সহিংসতা, ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম উপস্থিত থাকলেও এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
ক্যাম্পাসে ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সংগঠনটি ৫ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা, আহত সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া।


























