সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জের ধরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। পৈতৃক বা বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার একপর্যায়ে আপন বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে ছোট ভাইকে। এই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্ত বড় ভাইসহ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
গত রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাড়াইপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম নুর মোহাম্মদ। আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার আপন বড় ভাই নুর ইসলাম এবং শামিম বিন ইফতেখার বাবুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে নুর মোহাম্মদের সঙ্গে তার বড় ভাই নুর ইসলামের বিভিন্ন জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে সেই পুরনো বিরোধের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে পুনরায় তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির সূত্রপাত ঘটে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই নুর ইসলাম একটি ভারী লাঠি দিয়ে ছোট ভাই নুর মোহাম্মদের বুকে সজোরে আঘাত করেন। আঘাতটি অত্যন্ত মারাত্মক হওয়ায় নুর মোহাম্মদ সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর জখম হন।
নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম জানান, স্বামীর গুরুতর আহত হওয়ার খবর পেয়ে তাকে দ্রুত চিকিৎসালয়ের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত অমানবিক বিষয় হলো, হাসপাতালে নেওয়ার পথেও নুর ইসলামের লোকজন তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুরে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রংপুর নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুর মোহাম্মদ।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























