২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির প্রথম ধাপের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকার বৈধ প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দেশের ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও আবেদন করেননি। এছাড়া আবেদন জমা পড়া সত্ত্বেও প্রথম ধাপে একজন শিক্ষার্থীকেও আসন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪১৬টি। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ ফল প্রকাশ করে।
শিক্ষা বোর্ডের উপাত্ত অনুযায়ী, সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমের আওতায় মোট ৮ হাজার ১৮০টি অনুমোদিত কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ১৮৬টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ২৬টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে। প্রথম ধাপের প্রক্রিয়াকরণে প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্ষেত্রে বিশাল তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে; অনেক জনপ্রিয় কলেজে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আবেদন পড়লেও বহুসংখ্যক কলেজে ন্যূনতম শিক্ষার্থীও মেলেনি।
চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক ধাপে মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী আবেদন সম্পন্ন করেন। তারা নিজেদের পছন্দক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন কলেজে সর্বমোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫টি আবেদন জমা দেন। মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী আসন বরাদ্দ পেয়েছে। তবে যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও প্রথম ধাপে কোনো কলেজে আসন পাননি ১৪ হাজার ৪১৫ জন আবেদনকারী।
বিভাগভিত্তিক আসন ও আবেদনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, মানবিক বিভাগে মোট ৯ লাখ ৯৪,৬৯৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ৮৭,৪৫০টি, যার মধ্যে প্রথম ধাপে আসন পেয়েছে ৫ লাখ ২৪,৭৭১ জন। বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৬ লাখ ২৬,২৭১টি আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৩৯,৬২৫ জন আবেদন করে আসন পেয়েছে ২ লাখ ২১,৯০৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৬ লাখ ৪৭,৯৭৯টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ৬৭,০৫২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৪০,৮৮৭ জন আসন পেয়েছে। এছাড়া হোম সায়েন্স, মিউজিক, ইসলামিক স্টাডিজ ও মাদ্রাসা বোর্ডের অন্যান্য শাখায়ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম ধাপে আসন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই, কারণ পরবর্তীতে পছন্দক্রম ও খালি আসন সাপেক্ষে তাদের বিষয় বিবেচনা করা হবে। তবে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন সয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম ধাপের মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে।
পরবর্তীতে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজগুলোতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি থাকায়, নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একযোগে শুরু হবে।


























