বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ‘রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম (আরবিওপি)’। সংগঠনটির সভাপতি ও সাবেক সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এবং মহাসচিব ও সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার মো. কবিরুল ইসলাম যৌথ বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে কতিপয় দুষ্কৃতকারীর অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণ চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত। একজন অশীতিপর জ্যেষ্ঠ নাগরিক হুইলচেয়ারে চলন্ত অবস্থায় তার প্রতি এমন অপমানজনক ও অসদাচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। বরং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতির চরম ক্রান্তিকালে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করে জাতিকে রাজনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন। একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদের পতনের পর বাংলাদেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম এবং সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি জাতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ ও ঋণী। তারা ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট অন্ধ, জ্ঞানপাপী, গণতন্ত্র ও দেশদ্রোহীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সরকারে প্রতি জোর দাবি জানানো হয়, অনতিবিলম্বে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেশের সম্মানহানিকারী এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।


























