উচ্চ বেতনের আকর্ষণীয় চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে জোরপূর্বক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানোর অভিযোগে আন্তঃদেশীয় মানব পাচার চক্রের দুই মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত দুই মানব পাচারকারী হলেন—মিজানুর রহমান (৫৫) এবং মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফরিদপুরের নগরকান্দা এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেনকে (২১) রাশিয়ায় লোভনীয় নির্মাণকাজের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নিয়ে যায় এই চক্র। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক রুশ সামরিক বাহিনীতে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর রাজনকে সরাসরি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ভয়ংকর সম্মুখসারিতে ঠেলে দেওয়া হয়।
যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি দুই পায়ের কার্যক্ষমতা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত অবস্থায় পালিয়ে কোনোমতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শরণাপন্ন হন এবং দূতাবাসের সার্বিক সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে আসার পর ভুক্তভোগী পরিবার পাচারকারীদের কাছে ক্ষতিপূরণ ও প্রতারণার প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় রাজনের বাবা বাদী হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার ভোরে এসআরবি-১০ এর একটি দল ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে এসআরবি-৬-এর সহায়তায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে আবু তাহের লেন্টুকে আটক করা হয়।
এসআরবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে উচ্চ বেতনের ভুয়া চাকরির আড়ালে রাশিয়ায় পাচার করার তথ্য পাওয়া গেছে। পাচারের শিকার এই যুবকদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। মর্মান্তিক এই প্রতারণার শিকার হয়ে ওই দলের প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন এবং মাত্র দু’জন অলৌকিকভাবে পালিয়ে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করে অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


























