Dhaka ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ তারকাদের বর্তমান দিনকাল ও স্মৃতিকথা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

ষাট থেকে আশির দশকে বড় পর্দায় অভিনয় নৈপুণ্য দেখিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন একঝাঁক নন্দিত শিল্পী। কালের পরিক্রমায় তাঁদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁরা চলচ্চিত্র থেকে দূরে নিজস্ব পরিমণ্ডলে সময় কাটাচ্ছেন।

১৯৯৯ সালে কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ সিনেমায় শেষবার অভিনয় করা শবনম এখন রাজধানীর বারিধারার বাসায় ধর্মকর্ম ও সংসার নিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। মনের মতো গল্প ও চরিত্রের অভাবে আর অভিনয়ে ফেরা হয়নি তাঁর। ১৯৫৯ সালে এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে কিশোরী শিল্পী হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর ১৯৬২ সালের ‘চান্দা’ দিয়ে ঢালিউডে নায়িকা হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা অভিনেত্রী আনোয়ারার দিন কাটছে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগিতে। ১৯৬১ সালে বড় পর্দায় যুক্ত হয়ে ২০০০ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত সক্রিয় থাকা এই গুণী শিল্পীকে সর্বশেষ ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মা’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল।

নব্বই দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা সেখানে স্বামী, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী রত্না হিসেবে অভিনয়ে আসা এই তারকা ১৯৬৭ সালে ‘চকোরী’ ছবির মাধ্যমে নায়িকা শাবানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৯ সালে আজিজুর রহমানের ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ছিল তাঁর অভিনীত শেষ ছবি।

একইভাবে অভিনেত্রী সুচন্দাও বনানীতে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে পারিবারিক আবহে সময় কাটাচ্ছেন। ষাটের দশকে রূপালি পর্দায় আসা এই অভিনেত্রী নব্বই দশকের শেষে অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। অবসর সময়ে ভাইদের দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং দুই বোন ববিতা ও চম্পার সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটান।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতার বেশির ভাগ সময় কাটে কানাডায় ছেলের কাছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ভাইদের সঙ্গে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি পুরোনো সিনেমা দেখে সময় কাটান ২০১৫ সালে ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ ছবিতে শেষ অভিনয় করা এই শিল্পী।

অভিনেত্রী রোজিনা তাঁর জন্মস্থান রাজবাড়ীতে মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং ঢাকা ও রাজবাড়ীর মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন। ২০২১ সালে ‘ফিরে দেখা’ পরিচালনা ও অভিনয়ের পর তিনি নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করেননি। এদিকে ১৯৭২ সালের ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও নন্দিত অভিনেতা সোহেল রানা শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে এখন অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে রয়েছেন। বাসায় বই পড়ে ও ধর্মকর্ম পালন করেই সময় পার করছেন তিনি।

পছন্দসই চরিত্রের অভাবে ২০০০ সালের পর থেকে অনিয়মিত হয়ে পড়া অভিনেত্রী সুচরিতাও এখন পুরোদস্তুর গৃহিণী। সত্তরের দশকে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে শিশুশিল্পী হিসেবেও তিনি কাজ করেছিলেন।

এদিকে হারানো ছেলেকে ফিরে না পাওয়ার বেদনা নিয়ে সম্প্রতি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খান। গত রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিনেত্রী শাবানা।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ তারকাদের বর্তমান দিনকাল ও স্মৃতিকথা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ষাট থেকে আশির দশকে বড় পর্দায় অভিনয় নৈপুণ্য দেখিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন একঝাঁক নন্দিত শিল্পী। কালের পরিক্রমায় তাঁদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁরা চলচ্চিত্র থেকে দূরে নিজস্ব পরিমণ্ডলে সময় কাটাচ্ছেন।

১৯৯৯ সালে কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ সিনেমায় শেষবার অভিনয় করা শবনম এখন রাজধানীর বারিধারার বাসায় ধর্মকর্ম ও সংসার নিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। মনের মতো গল্প ও চরিত্রের অভাবে আর অভিনয়ে ফেরা হয়নি তাঁর। ১৯৫৯ সালে এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে কিশোরী শিল্পী হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর ১৯৬২ সালের ‘চান্দা’ দিয়ে ঢালিউডে নায়িকা হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা অভিনেত্রী আনোয়ারার দিন কাটছে নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগিতে। ১৯৬১ সালে বড় পর্দায় যুক্ত হয়ে ২০০০ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত সক্রিয় থাকা এই গুণী শিল্পীকে সর্বশেষ ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মা’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল।

নব্বই দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা সেখানে স্বামী, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী রত্না হিসেবে অভিনয়ে আসা এই তারকা ১৯৬৭ সালে ‘চকোরী’ ছবির মাধ্যমে নায়িকা শাবানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৯ সালে আজিজুর রহমানের ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ছিল তাঁর অভিনীত শেষ ছবি।

একইভাবে অভিনেত্রী সুচন্দাও বনানীতে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে পারিবারিক আবহে সময় কাটাচ্ছেন। ষাটের দশকে রূপালি পর্দায় আসা এই অভিনেত্রী নব্বই দশকের শেষে অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। অবসর সময়ে ভাইদের দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং দুই বোন ববিতা ও চম্পার সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটান।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতার বেশির ভাগ সময় কাটে কানাডায় ছেলের কাছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ভাইদের সঙ্গে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি পুরোনো সিনেমা দেখে সময় কাটান ২০১৫ সালে ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ ছবিতে শেষ অভিনয় করা এই শিল্পী।

অভিনেত্রী রোজিনা তাঁর জন্মস্থান রাজবাড়ীতে মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং ঢাকা ও রাজবাড়ীর মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন। ২০২১ সালে ‘ফিরে দেখা’ পরিচালনা ও অভিনয়ের পর তিনি নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করেননি। এদিকে ১৯৭২ সালের ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও নন্দিত অভিনেতা সোহেল রানা শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে এখন অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে রয়েছেন। বাসায় বই পড়ে ও ধর্মকর্ম পালন করেই সময় পার করছেন তিনি।

পছন্দসই চরিত্রের অভাবে ২০০০ সালের পর থেকে অনিয়মিত হয়ে পড়া অভিনেত্রী সুচরিতাও এখন পুরোদস্তুর গৃহিণী। সত্তরের দশকে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে শিশুশিল্পী হিসেবেও তিনি কাজ করেছিলেন।

এদিকে হারানো ছেলেকে ফিরে না পাওয়ার বেদনা নিয়ে সম্প্রতি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খান। গত রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিনেত্রী শাবানা।