Dhaka ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:২৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

ভুয়া বিল ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল ফাত্তাহ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন কারাগারের বন্দিদের খোরাকি রেশন খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাপক অনিয়ম করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিভাগীয় নিরীক্ষা বা অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের গঠিত উচ্চপর্যায়ী তদন্ত কমিটির নিবিড় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিশদভাবে উঠে এসেছে যে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ এবং ‘শুভ স-মিল’ নামক সম্পূর্ণ তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৭টি ভুয়া বিল তৈরি ও অনুমোদন করিয়ে সর্বমোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, কারাগারে বন্দির প্রকৃত সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত ও ভুয়া সরকারি অর্থ উত্তোলনের অপচেষ্টা চালানো হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেল সুপারকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলকে দিয়ে সব বিল প্রস্তুত করানো, বিভিন্ন রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করা এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে ৯টি আলাদা চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় পুনরায় জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে সাবেক জেলার আব্দুল ফাত্তাহ নিজ দায়িত্বে ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। দুর্নীতির এই পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কারা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। তাঁকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তাঁর ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে নিয়োগকৃত তদন্তকারী কর্মকর্তা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও চরম দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে চূড়ান্ত মতামত প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে চাকরি থেকে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং তিনি গত ৫ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দাখিল করেন। সবশেষে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-ও তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সম্মতি জ্ঞাপন করে। সমস্ত তথ্য-উপাত্ত, অডিট রিপোর্ট ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:২৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া বিল ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল ফাত্তাহ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন কারাগারের বন্দিদের খোরাকি রেশন খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাপক অনিয়ম করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিভাগীয় নিরীক্ষা বা অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের গঠিত উচ্চপর্যায়ী তদন্ত কমিটির নিবিড় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিশদভাবে উঠে এসেছে যে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ এবং ‘শুভ স-মিল’ নামক সম্পূর্ণ তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৭টি ভুয়া বিল তৈরি ও অনুমোদন করিয়ে সর্বমোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, কারাগারে বন্দির প্রকৃত সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত ও ভুয়া সরকারি অর্থ উত্তোলনের অপচেষ্টা চালানো হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেল সুপারকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলকে দিয়ে সব বিল প্রস্তুত করানো, বিভিন্ন রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করা এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে ৯টি আলাদা চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় পুনরায় জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে সাবেক জেলার আব্দুল ফাত্তাহ নিজ দায়িত্বে ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। দুর্নীতির এই পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কারা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। তাঁকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তাঁর ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে নিয়োগকৃত তদন্তকারী কর্মকর্তা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও চরম দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে চূড়ান্ত মতামত প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে চাকরি থেকে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং তিনি গত ৫ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দাখিল করেন। সবশেষে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-ও তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সম্মতি জ্ঞাপন করে। সমস্ত তথ্য-উপাত্ত, অডিট রিপোর্ট ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।