স্পেনিশ লা লিগায় নিজেদের জয়রথ অব্যাহত রেখে টানা আট ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনা। গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও জুলস কুন্দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে গেতাফেকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনা এই জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বর আসনে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করল।
ম্যাচ শুরুর আগেই বার্সেলোনা শিবিরে বড় একটি ধাক্কা লেগেছিল, কারণ আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় চোটে পড়ে মাঠের বাইরে চলে যান দলের অন্যতম সেরা তারকা ও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। কোচ হান্সি ফ্লিক ইতিমধ্যে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধু গেতাফের বিপক্ষেই নয়, বরং পরবর্তীতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষেও রাফিনিয়াকে পাওয়া যাবে না। তবে দলের এই বড় তারকার অনুপস্থিতি খুব বেশি অনুভূত হতে দেননি অপর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। রাফিনিয়ার ইনজুরির সুযোগে বার্সেলোনার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের নামের প্রতি পুরোপুরি সুবিচার করেছেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারির দর্শকদের মাতিয়ে রেখে আক্রমণাত্মক ও ধারালো ফুটবল খেলতে শুরু করে স্বাগতিক বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষ গেতাফেকে নিজেদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টির সুযোগ না দিয়ে ম্যাচের একেবারে শুরুতেই লিড নেয় কাতালানরা। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র দুই মিনিট, ঠিক তখনই চমৎকার এক আক্রমণে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন।
শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ায় বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায় এবং তারা গেতাফের রক্ষণভাগের ওপর লাগাতার চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিপক্ষ দল যখন সেই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। কোচ হান্সি ফ্লিকের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নিজের গোলটি স্কোরশিটে নাম লেখান। প্রথমার্ধের বাকি সময় জুড়ে বার্সেলোনা বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে এবং গেতাফেকে কোনো গোলের সুযোগ না দিয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
বিরতির পর ফিরে এসেও নিজেদের আক্রমণের ধার ও গতি একটুও কমায়নি হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও বলের নিয়ন্ত্রণ ও মাঠের সার্বিক আধিপত্য বজায় রেখে তারা গেতাফের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। ম্যাচের ৭৩ মিনিটের মাথায় তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত এক সহায়তায় বল পেয়ে অত্যন্ত চমৎকার শটে গোল করেন বার্সেলোনার ফরাসি ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে। এই গোলের সুবাদে দলের ব্যবধান বেড়ে ৩-০ তে পৌঁছায় এবং জয়ের পথ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় এই আরামদায়ক ও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক বার্সেলোনা। এই জয়ের সুবাদে লা লিগায় আট ম্যাচে আটটিতেই জয় তুলে নিয়ে ২৪ পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে অক্ষুণ্ণ রাখল কাতালান ক্লাবটি।

























