Dhaka ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ ও সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত ২ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও প্রথম শ্রেণির খেলাকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

অবশেষে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ও জনপ্রিয় অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ভক্তদের কাছে ‘দ্য বিগ শো’ নামে পরিচিত ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার জাতীয় দলের জার্সি পুরোপুরি তুলে রাখলেও এখনই ক্রিকেটকে পুরোপুরি বিদায় জানাচ্ছেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) মেলবোর্ন স্টারসের জার্সিতে অন্তত ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত তাঁর মাঠ মাতানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত বছরের জুন মাসেই ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসরে গিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর থেকে তিনি কেবল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই নিয়মিত খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। চলতি বছরের অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে অংশ নিলেও দুর্ভাগ্যবশত দল গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওমানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিই হয়ে থাকল দেশের জার্সিতে তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ওই ম্যাচে বল হাতে দুটি উইকেট শিকার করলেও ব্যাটিংয়ে নামার আর কোনো সুযোগ পাননি তিনি।

অবসরের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ ম্যাক্সওয়েল জানান, বিশ্বকাপের আগে এবং পরে অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাঁর বেশ কয়েক দফা খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল। দল থেকে তাঁর ওপর কোনো প্রকার চাপ না থাকলেও, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই তিনি নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ খোলামেলা ছিল। দলের পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল না, তবে সামনে বেশ কিছু সিরিজ রয়েছে যেখানে দল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তরুণদের সুযোগ দিতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ সিরিজের ক্ষেত্রেও আমরা বিষয়টি লক্ষ করেছি, যেখানে নতুনরা সুযোগ পেয়ে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছে।”

অবসরের আগে নিজের দেশের মাটিতে বিখ্যাত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আরও একটি শেষ ম্যাচ খেলার তীব্র ইচ্ছা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। যদিও সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক আক্ষেপ রয়েছে, তবুও দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে তিনি সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

ম্যাক্সওয়েল আরও বলেন, “এমসিজিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলার ছোট একটা আশা আমার মনে ছিল। তবে দলের সামগ্রিক কৌশল আমি বুঝতে পারছি। ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে জাতীয় দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাড়তি চাপের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত করে তোলা অত্যন্ত জরুরি, যা সবসময় বিগ ব্যাশের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সম্ভব হয়ে ওঠে না।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পথে থাকছেন ম্যাক্সওয়েল। গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী আসরে বেলফাস্ট উলভস দলকে তিনি সফলভাবে ফাইনালে তুলেছিলেন। এরপর ভিক্টোরিয়া রাজ্য দলের হয়ে ওয়ানডে কাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন, যা ছিল রাজ্য দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

ভিক্টোরিয়ার সতীর্থদের সামনে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তটি প্রকাশ করার মুহূর্তটি বেশ আবেগঘন ছিল বলে জানান এই অলরাউন্ডার। তাঁর ভাষায়, “সতীর্থদের সামনে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো যে এটিই ভিক্টোরিয়ার হয়ে আমার শেষ ম্যাচ, তা আমার অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ছিল। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তারা আমাকে অবিশ্বাস্য সমর্থন জুগিয়েছে। কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। এখন আমি আমার শরীরের সুরক্ষায় এবং ক্যারিয়ারের বাকি টুর্নামেন্টগুলোর জন্য আরও বেশি সময় বরাদ্দ রাখতে চাই।”

আসন্ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সাদা বলের সিরিজে মেলবোর্নে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার একটি ছোট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে হাঁটুর পুরনো চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগের জন্য নিজেকে শতভাগ ফিট ও প্রস্তুত করতে হাঁটুতে বিশেষ ইনজেকশন নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি এবং পাশাপাশি প্রায় আট সপ্তাহের একটি কঠোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ১৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। দুর্দান্ত ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে তিনি সংগ্রহ করেছেন ২ হাজার ৮৯৭ রান এবং পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৫১টি উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর করা পাঁচটি সেঞ্চুরি যৌথভাবে একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড, যা তিনি ভারতের তারকা ব্যাটার রোহিত শর্মার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দীর্ঘ সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে নিজের সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার, যেখানে তাঁর মোট রান ৩৩৯। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে তৎকালীন রাঁচি টেস্টে খেলা ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের একমাত্র ও সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি।

দলীয় অর্জনের দিক থেকেও ম্যাক্সওয়েলের ঝুলিতে রয়েছে অনন্য সাফল্য। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এ ছাড়াও ২০২১ সালের স্মরণীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেখানে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়সূচক রানটি এসেছিল তাঁরই ব্যাট থেকে। জাতীয় দলের সঙ্গে ১৩ বছরেরও বেশি দীর্ঘ পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ক্রিকেটে তাকে আরও বেশ কিছুদিন দেখতে পাবে ভক্তরা।

জনপ্রিয়

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ বন্ধ থাকবে ২৪ ঘণ্টা, ডেসকোর জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও প্রথম শ্রেণির খেলাকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

অবশেষে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ও জনপ্রিয় অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ভক্তদের কাছে ‘দ্য বিগ শো’ নামে পরিচিত ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার জাতীয় দলের জার্সি পুরোপুরি তুলে রাখলেও এখনই ক্রিকেটকে পুরোপুরি বিদায় জানাচ্ছেন না। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) মেলবোর্ন স্টারসের জার্সিতে অন্তত ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত তাঁর মাঠ মাতানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত বছরের জুন মাসেই ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসরে গিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর থেকে তিনি কেবল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই নিয়মিত খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। চলতি বছরের অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে অংশ নিলেও দুর্ভাগ্যবশত দল গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওমানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিই হয়ে থাকল দেশের জার্সিতে তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ওই ম্যাচে বল হাতে দুটি উইকেট শিকার করলেও ব্যাটিংয়ে নামার আর কোনো সুযোগ পাননি তিনি।

অবসরের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ ম্যাক্সওয়েল জানান, বিশ্বকাপের আগে এবং পরে অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাঁর বেশ কয়েক দফা খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল। দল থেকে তাঁর ওপর কোনো প্রকার চাপ না থাকলেও, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই তিনি নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ খোলামেলা ছিল। দলের পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল না, তবে সামনে বেশ কিছু সিরিজ রয়েছে যেখানে দল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তরুণদের সুযোগ দিতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ সিরিজের ক্ষেত্রেও আমরা বিষয়টি লক্ষ করেছি, যেখানে নতুনরা সুযোগ পেয়ে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছে।”

অবসরের আগে নিজের দেশের মাটিতে বিখ্যাত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আরও একটি শেষ ম্যাচ খেলার তীব্র ইচ্ছা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। যদিও সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক আক্ষেপ রয়েছে, তবুও দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে তিনি সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

ম্যাক্সওয়েল আরও বলেন, “এমসিজিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলার ছোট একটা আশা আমার মনে ছিল। তবে দলের সামগ্রিক কৌশল আমি বুঝতে পারছি। ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে জাতীয় দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাড়তি চাপের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত করে তোলা অত্যন্ত জরুরি, যা সবসময় বিগ ব্যাশের মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সম্ভব হয়ে ওঠে না।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পথে থাকছেন ম্যাক্সওয়েল। গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী আসরে বেলফাস্ট উলভস দলকে তিনি সফলভাবে ফাইনালে তুলেছিলেন। এরপর ভিক্টোরিয়া রাজ্য দলের হয়ে ওয়ানডে কাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন, যা ছিল রাজ্য দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

ভিক্টোরিয়ার সতীর্থদের সামনে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তটি প্রকাশ করার মুহূর্তটি বেশ আবেগঘন ছিল বলে জানান এই অলরাউন্ডার। তাঁর ভাষায়, “সতীর্থদের সামনে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো যে এটিই ভিক্টোরিয়ার হয়ে আমার শেষ ম্যাচ, তা আমার অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ছিল। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তারা আমাকে অবিশ্বাস্য সমর্থন জুগিয়েছে। কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। এখন আমি আমার শরীরের সুরক্ষায় এবং ক্যারিয়ারের বাকি টুর্নামেন্টগুলোর জন্য আরও বেশি সময় বরাদ্দ রাখতে চাই।”

আসন্ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সাদা বলের সিরিজে মেলবোর্নে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার একটি ছোট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে হাঁটুর পুরনো চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগের জন্য নিজেকে শতভাগ ফিট ও প্রস্তুত করতে হাঁটুতে বিশেষ ইনজেকশন নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি এবং পাশাপাশি প্রায় আট সপ্তাহের একটি কঠোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ১৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। দুর্দান্ত ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে তিনি সংগ্রহ করেছেন ২ হাজার ৮৯৭ রান এবং পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৫১টি উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর করা পাঁচটি সেঞ্চুরি যৌথভাবে একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড, যা তিনি ভারতের তারকা ব্যাটার রোহিত শর্মার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দীর্ঘ সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে নিজের সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার, যেখানে তাঁর মোট রান ৩৩৯। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে তৎকালীন রাঁচি টেস্টে খেলা ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের একমাত্র ও সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি।

দলীয় অর্জনের দিক থেকেও ম্যাক্সওয়েলের ঝুলিতে রয়েছে অনন্য সাফল্য। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এ ছাড়াও ২০২১ সালের স্মরণীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যেখানে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয়সূচক রানটি এসেছিল তাঁরই ব্যাট থেকে। জাতীয় দলের সঙ্গে ১৩ বছরেরও বেশি দীর্ঘ পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ক্রিকেটে তাকে আরও বেশ কিছুদিন দেখতে পাবে ভক্তরা।