Dhaka ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছাত্রদল

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক সংগঠনগুলোকে সুকৌশলে ‘গুপ্ত রাজনীতির আখড়া’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে যেকোনো ধরনের দলীয় ও গুপ্ত রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার জোরালো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক সুদীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদল সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ওই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে জড়িত সংশ্লিষ্ট শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের দৃশ্যমান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, ছাত্রদল এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি, সাংবাদিক সমিতি কিংবা ডিবেটিং সোসাইটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রে প্রকাশ্য রাজনৈতিক পদধারীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড বা গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফায়দা লুটছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে।

এসব সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন বহিরাগত পৃষ্ঠপোষকতার মাঝে চরম অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রদল সভাপতি। অতীতে এই ধরনের সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন ব্যক্তিরা পরবর্তীতে কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের পক্ষে কাজ করেছেন, তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করলেই এই বক্তব্যের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সহশিক্ষামূলক ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে কোনোভাবেই গুপ্ত রাজনীতির ‘আতুরঘর’ হিসেবে গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি খুব দ্রুতই এই মুখোশধারী চক্রের আসল চেহারা জাতির সামনে উন্মোচন করার দৃঢ় ঘোষণা দেন।

ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটিসহ যাবতীয় সহশিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অবাধ প্রবেশাধিকার ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে কোনো অরাজনৈতিক সংগঠন যদি গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তির আর্থিক সহায়তায় ছাত্রদলকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনায় জড়িয়ে ফেলার অপচেষ্টা চালায়, তবে তা কঠোরহস্তে প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে মব সংস্কৃতি, কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ কিংবা গুপ্ত রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া এসব আন্ডারগ্রাউন্ড ইউনিটের কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সময়ের বিবর্তনে আপনাআপনিই উন্মোচিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গুপ্ত রাজনীতিকদের কবল থেকে ক্যাম্পাসগুলোর সংগঠনগুলোকে মুক্ত করে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার এবং প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান ছাত্রদল সভাপতি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছাত্রদল

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক সংগঠনগুলোকে সুকৌশলে ‘গুপ্ত রাজনীতির আখড়া’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে যেকোনো ধরনের দলীয় ও গুপ্ত রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার জোরালো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক সুদীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদল সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ওই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে জড়িত সংশ্লিষ্ট শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের দৃশ্যমান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, ছাত্রদল এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি, সাংবাদিক সমিতি কিংবা ডিবেটিং সোসাইটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রে প্রকাশ্য রাজনৈতিক পদধারীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড বা গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফায়দা লুটছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে।

এসব সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন বহিরাগত পৃষ্ঠপোষকতার মাঝে চরম অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রদল সভাপতি। অতীতে এই ধরনের সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন ব্যক্তিরা পরবর্তীতে কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের পক্ষে কাজ করেছেন, তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করলেই এই বক্তব্যের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সহশিক্ষামূলক ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে কোনোভাবেই গুপ্ত রাজনীতির ‘আতুরঘর’ হিসেবে গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি খুব দ্রুতই এই মুখোশধারী চক্রের আসল চেহারা জাতির সামনে উন্মোচন করার দৃঢ় ঘোষণা দেন।

ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটিসহ যাবতীয় সহশিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অবাধ প্রবেশাধিকার ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে কোনো অরাজনৈতিক সংগঠন যদি গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তির আর্থিক সহায়তায় ছাত্রদলকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনায় জড়িয়ে ফেলার অপচেষ্টা চালায়, তবে তা কঠোরহস্তে প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে মব সংস্কৃতি, কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ কিংবা গুপ্ত রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া এসব আন্ডারগ্রাউন্ড ইউনিটের কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সময়ের বিবর্তনে আপনাআপনিই উন্মোচিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গুপ্ত রাজনীতিকদের কবল থেকে ক্যাম্পাসগুলোর সংগঠনগুলোকে মুক্ত করে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার এবং প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান ছাত্রদল সভাপতি।