মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কারাবন্দী এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মুক্ত করতে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির দুই নেতার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া দুই নেতা হলেন—বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। জেলা বিএনপির মুখপাত্র ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূরতাজ আলম বাহার স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্বশীল পদে থেকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির মুখপাত্র নূরতাজ আলম বাহার জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগীদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই ঘটনায় বরাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মল্লিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য তাকে কেন বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় জেলা তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও উপজেলা তাঁতি দলের সভাপতি বাবুল হোসেনের পদও স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে মুক্ত করতে সাটুরিয়া উপজেলা তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন সংগঠনের প্যাডে নিজেকে সভাপতি দাবি করে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন, যেখানে রুবেলকে বিএনপির ‘সংগ্রামী সদস্য’ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও যুবদল সভাপতি আব্দুল মান্নান যৌথভাবে আরেকটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন।


























