চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মসজিদে নামাজ আদায় সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডার জের ধরে চরম নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক আক্রোশ ও ক্ষোভের বশে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে জেলা ছাত্রদলের এক যুগ্ম সম্পাদকসহ তিনজনের গায়ে কেটলির ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের পুকুরপাড়া মোড়ে অবস্থিত জামালের চায়ের দোকানে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
আহত ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন—জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ও শঙ্করচন্দ্র গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে হাসানুজ্জামান, এবং একই এলাকার অপর দুজন সিরাজুল ইসলাম (৪২) ও হাসান (৩২)। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দগ্ধ তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং বর্তমানে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার রাতে তিনি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পুকুরপাড়া মোড়ের ওই চায়ের দোকানে বসে আলাপচারিতা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান সেখানে উপস্থিত হয়ে মসজিদে নামাজ পড়া প্রসঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। হাসানুজ্জামান এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে সুলতান চায়ের দোকানের কেটলিতে থাকা ফুটন্ত গরম পানি তার শরীরে সজোরে ছুড়ে মারেন। এ সময় তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলে পাশে থাকা সিরাজুল ইসলাম ও হাসানের গায়েও সেই ফুটন্ত পানি পড়ে, যার ফলে তিনজনই গুরুতর দগ্ধ হন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সুলতান দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুলতান শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্তাব হোসেনের ছেলে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হিমেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


























