কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় স্থানীয় এক যুবদল নেতার নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে একটি বাণিজ্যিক মার্কেটের তিনটি দোকানে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের মালিক হাসানুল ইসলাম মুন্না গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির হয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পুলতাকান্দা এলাকায় এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি সংঘটিত হয়, যা স্থানীয় জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী ও মার্কেটের মালিক হাসানুল ইসলাম মুন্না পেশাগত সূত্রে রাজধানী ঢাকায় পাদুকা ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং পুলতাকান্দা এলাকায় তার নিজস্ব পৈতৃক নিবাস রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি ওই এলাকায় ৩২ শতক জমি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে সেই জমিতে একটি মার্কেট নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় অবস্থান করার সুবাদে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্ত সুযোগ বুঝে তার মার্কেটের তিনটি দোকান থেকে বৈধ ভাড়াটিয়াদের অহেতুক বের করে দিয়ে নিজেদের কব্জায় নেয় এবং সেখানে আকস্মিকভাবে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
মুন্না আরও অভিযোগ করেন যে, দোকানগুলোতে তালা লাগানোর সময় অভিযুক্ত দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যেই প্রচার করে যে ভৈরব উপজেলা যুবদল নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান আল-মামুনের নির্দেশেই তারা এই কাজটি সম্পন্ন করেছে এবং তারা নাকি ওই জমিটি নতুন করে কিনে নিয়েছে। অথচ জমির বৈধ মালিকানার সপক্ষে ক্রয়দলিল, নামজারি বা খারিজসহ যাবতীয় আইনি কাগজপত্র তার কাছে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা, সমঝোতা বা আইনগত নোটিশ ছাড়াই এমন জবরদখল ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিকার চেয়ে তিনি দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, এই পুরো অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত ভৈরব উপজেলা যুবদল নেতা আল-মামুন তার বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অস্বীকার করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে পুলতাকান্দার ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিংবা তার কোনো অনুসারী বিন্দুমাত্র অবগত নন এবং মার্কেটের দোকানে তালা লাগানোর জন্য তিনি কাউকে কোনো ধরনের মৌখিক বা লিখিত নির্দেশও দেননি। তার রাজনৈতিক নাম বা পরিচয় ভাঙিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করে তিনি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।


























