পেঁয়াজ পচন থেকে রক্ষা ও কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি ও জলবায়ু ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারিগরি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ক্ষমতার মোটরের পরিবর্তে স্থানীয় কারখানায় তৈরি নিম্নমানের ও বেশি ওয়াটের মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। কম খরচে কেনা এসব মোটর ব্যবহারের ফলে কৃষকদের বিদ্যুৎ খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা হলে সরকারের গৃহিত উদ্যোগটি মারাত্মভাবে ব্যাহত হতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ ওয়াটের জ্বালানি সাশ্রয়ী মোটর সরবরাহ করার কথা ছিল, সেখানে মাঠপর্যায়ে ৪০০ থেকে ৭৪৬ ওয়াটের অননুমোদিত ও নিম্নমানের মোটর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকের সুফলের পরিবর্তে ভোগান্তি বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ খরচ প্রায় পাঁচগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক মাত্রায় আলোক সঞ্চালনের অভাবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষিত পেঁয়াজ পচে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এ অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ১৫ হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণ এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। রাজবাড়ী, নাটোর, ফরিদপুর, পাবনাসহ প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলে এসব মেশিন পাঠানো হলেও বিতরণ প্রক্রিয়ার শুরুতেই কারিগরি সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতির চিত্র সামনে আসে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।


























