একই ভৌগোলিক অবস্থান ও অভিন্ন আমন মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদিত ধানের পরিমাণে দেখা দিয়েছে এক অভাবনীয় ও লক্ষণীয় ব্যবধান। পূর্বে যেখানে সনাতন বা প্রচলিত জাতের ধান চাষাবাদ করে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ আঠারো মণ ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হতো, সেখানে নতুন উদ্ভাবিত বিনা ধান-২৬ আবাদ করে কৃষকরা সাড়ে বত্রিশ মণ ফলন অর্জনে সফল হয়েছেন। ফলন প্রাপ্তির এই অবিশ্বাস্য সাফল্য গোপালগঞ্জের সাধারণ কৃষক মহব্বত হোসেনের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য চাষিদের মধ্যেও প্রত্যাশার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের মনে জন্ম দিয়েছে নতুন আশার আলোর।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম শুকতাইল গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে আবাদকৃত বিনা ধান-২৬ থেকে এই সন্তোষজনক ফলন পাওয়া গেছে। তাঁর এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রত্যক্ষ করে পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ কৃষকদের মাঝেও এই নতুন জাতের ধান চাষে গভীর আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে পুরো জেলার প্রায় চারশ জন কৃষক তাঁদের নিজ নিজ জমিতে এই জাতের ধান চাষ করেছেন; যাঁদের মধ্যে একই ইউনিয়নের অন্য দুই চাষি শহীদ সর্দার ও ইলিয়াসও শামিল রয়েছেন।
নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের উচ্চফলনশীলতা ও এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা স্থানীয় অন্যান্য কৃষকদের সামনে দৃশ্যমান করার উদ্দেশ্যে গত ২৭ অক্টোবর কৃষক মহব্বত হোসেনের নিজস্ব জমিতে এক বিশেষ মাঠ দিবস ও ফসল কর্তন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কৃষিবিজ্ঞানীরা সরাসরি উপস্থিত থেকে পাকা ধান কেটে এর ফলন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এর পাশাপাশি উপস্থিত কৃষকদের সাথে আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় নতুন এই জাতটির আধুনিক চাষপদ্ধতি, আনুষঙ্গিক উৎপাদন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।


























