পিরোজপুরের নাজিরপুর ও পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলার শত শত একর জলমগ্ন জমিতে কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদের সাহায্যে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ভাসমান বেড বা ‘ধাপ’-এ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জীবনযাত্রায় এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ ছয় মাস জলাশয়ে পানি জমে থাকায় প্রচলিত কৃষিকাজ ব্যাহত হলেও স্থানীয় কৃষকরা এই অবস্থাকে সুযোগে রূপান্তর করে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্যবাহী ভাসমান চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্ষার শুরুতে খাল-বিলের কচুরিপানা পচিয়ে দুই থেকে তিন ফুট পুরু এবং দীর্ঘ ভাসমান ধাপ তৈরি করা হয়, যেখানে শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, টমেটোসহ নানা সবজির চারা ও বিভিন্ন শাক উৎপাদিত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলমান এই মৌসুমে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি সবজির চারা উৎপাদিত হয়, যা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্য হয়ে থাকে। দক্ষিণাঞ্চল ছাড়িয়ে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকেও কৃষকরা এখানে চারা কিনতে আসেন এবং বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার কৃষক এই পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। পুরুষদের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীরাও জলজ উদ্ভিদের ম্যাদা তৈরি, বীজ বপন ও চারার নিবিড় পরিচর্যায় সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন। নাজিরপুরের বৈঠাকাটা হাটে জলজ উদ্ভিদ ও শ্যাওলা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতি সপ্তাহে জমে ওঠে জমজমাট নৌকার হাট। উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অনন্য এই কৃষিপদ্ধতির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এটিকে ‘বিশ্বগুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্যব্যবস্থা’ (জিআইএএইচএস) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।


























