বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে বাস্তবে কোনো পার্থক্য নেই। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও স্বতঃস্ফূর্ততাকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি করার তীব্র সমালোচনা করেন।

পোস্টে উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা না থাকা ব্যক্তিরা হঠাৎ করেই নেতৃত্ব দখল করে নিয়েছেন, যার মধ্যে সালাউদ্দীন আম্মারের মতো ব্যক্তিরা অন্যতম। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় অন্যান্য সব ছাত্র সংগঠনকে পাশ কাটিয়ে শিবির ও ‘ব্রাদার কোরাম’ বা গুপ্তশিবিরের লোকজনদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলেই ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী চক্র সর্বেসর্বা হয়ে দেশ ও রাজনীতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও কৃত্রিম ব্যক্তিত্ব বা ‘ম্যানুফ্যাকচারড ফিগার’ তৈরির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উমামা ফাতেমা বলেন, ফেসবুকের কন্টেন্টগুলোকে নিরীহভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেশন অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট ইন্টারেস্ট গ্রুপ বা স্বার্থান্বেষী মহল জুলাইয়ের নামে কৃত্রিম জনমত তৈরি করছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাতারাতি ‘হিরো’ বানিয়ে তরুণ প্রজন্মের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকটের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকার উদাহরণ টেনে তিনি এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পোস্টের শেষ অংশে দেশের মধ্যবিত্ত সমাজের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা থেকে হঠাৎ জেগে ওঠার প্রবণতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে উমামা ফাতেমা বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনীতি একদল সুযোগসন্ধানী ও মুনাফিকের হাতে চলে গেছে। জামায়াত তাদের অতীতের ‘গণহত্যার কালিমা’ ও রাজনৈতিক দায় ঢাকতে দেশকে যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে রাজি রয়েছে বলেও তিনি তীব্র মন্তব্য করেন।


























