আগামী পাঁচ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। মঙ্গলবার রাজধানীতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্য ন্যাশনাল কনসালটেশন অন স্কিলস, মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি: দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্ধারিত লক্ষ্যে সফলভাবে পৌঁছাতে হলে বর্তমান কাজের গতি ও প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে আরও জোরালো ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ওকাপের গবেষণা ব্যবস্থাপক উর্মি জাহান জানান যে, দেশের প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ কর্মী আংশিক কর্মসংস্থান বা আন্ডারএমপ্লয়মেন্টের শিকার এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অনানুষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত। শুধু প্রশিক্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়, বরং কোন ধরনের দক্ষতার প্রকৃত চাহিদা কোথায় রয়েছে এবং সেই দক্ষতা কীভাবে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাবে, সে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সদস্য মো. রবিউল ইসলাম জানান যে, প্রায় সাত লাখ প্রশিক্ষণার্থী এনএসডিএর সনদ পেলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই সনদের স্বীকৃতি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। তবে এর মধ্যেও সনদধারীদের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশ বা বিদেশে চাকরি পেয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভায় বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সাকাওয়াত আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালীয় দূতাবাসের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জিউসেপ্পে দি জিওভান্নি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রথম সচিব লরা কার্তানিয়া লিয়াখসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। বক্তারা অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।


























