রাইড শেয়ারিং সেবা প্রদানকারী উবার ও লিফট জানিয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে চীনের স্বচালিত ট্যাক্সি বা রোবট্যাক্সি পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পরিকল্পনা করছে তারা। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইদুর সঙ্গে অংশীদারিত্বে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে লন্ডনের সড়কে স্বচালিত যান পরীক্ষার অনুমতি পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন চাওয়া হবে। বাইদুর অ্যাপোলো গো নামের চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা ইতোমধ্যে চীন, হংকং ও দুবাইসহ বহু শহরে চালু রয়েছে এবং মানবচালক ছাড়াই লাখো যাত্রা সম্পন্ন করেছে।
যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এ উদ্যোগকে স্বচালিত যানবাহন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার প্রতি আস্থার আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাতায়াত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী বসন্ত থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উবার জানিয়েছে, সরকার স্বচালিত বাস ও ট্যাক্সির মতো ছোট বাণিজ্যিক সেবার পরীক্ষার জন্য নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করতে চাইছে বলে তারা যুক্তরাজ্যে ড্রাইভারলেস গাড়ির ট্রায়াল এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাইদুর সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিষয়ে উবার বলেছে, আগামী বছর লন্ডনবাসীর জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নতুন যাতায়াত বিকল্প আনতে তারা আগ্রহী।
লিফটও জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে বাইদুর সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে স্বচালিত ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় তারা ইতোমধ্যে স্বচালিত গাড়ির যাত্রীসেবা চালু করেছে, যেখানে উবারও গুগলের ওয়েমোর সঙ্গে অংশীদারিত্বে রোবট্যাক্সি পরিচালনা করছে।
লিফটের প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিশার বলেছেন, অনুমোদন পেলে আগামী বছর কয়েক ডজন অ্যাপোলো গো গাড়ি দিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে, পরে তা শতাধিক যান পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বচালিত গাড়ি অন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো সহজে বড় পরিসরে চালু করা যায় না। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাক স্টিলগো বলেন, কয়েকটি পরীক্ষামূলক গাড়ি চালানো আর পুরোপুরি কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
স্বচালিত যানকে ভবিষ্যতের পরিবহন হিসেবে দেখা হলেও নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ কোনো পরিস্থিতিতেই চালকবিহীন ট্যাক্সিতে উঠতে স্বস্তি বোধ করবেন না। একই জরিপে ৮৫ শতাংশ জানিয়েছেন, একই ভাড়া ও সুবিধা হলে তারা মানবচালিত ট্যাক্সিকেই বেছে নেবেন।
এ ছাড়া স্বচালিত গাড়ির ত্রুটি, যাত্রী আটকে পড়া, যানজট বা দুর্ঘটনার খবরও মাঝেমধ্যে সামনে আসছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় কিছু গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় ওয়েমো তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও যানজটের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে যুক্তরাজ্যের উচিত এই প্রযুক্তির মানদণ্ড নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখা। অধ্যাপক স্টিলগো বলেন, লন্ডন শহরের কেন্দ্রে গাড়ির সংখ্যা কমাতে সফল হয়েছে। তার মতে, যানজটের ক্ষেত্রে এক যাত্রীর গাড়ির চেয়েও খারাপ হলো যাত্রীবিহীন গাড়ি।
















