কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দমনে আবারও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। বিশেষ এই অভিযানে মোট ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চারজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) গ্রুপটির ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন চিহ্নিত স্পটে অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ৩৭ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে চারজন সরাসরি কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। আটক আনিসুর রহমান আনিক নগরীর ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে এবং গ্যাংয়ের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের আপন ভাগনে। বর্তমানে রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিক নিজেই এই গ্যাংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০২২ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আনিক গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আসার পর আবারও গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তৎপরতা নতুন করে সামনে চলে আসে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা জুড়ে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জন এবং পরবর্তীতে সর্বশেষ অভিযানে আরও ২৫৪ জনসহ বিপুলসংখ্যক সন্দেহভাজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অভিযান প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বখাটেদের উৎপাত ও আড্ডার স্থানগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জনস্বার্থে অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।


























