বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির স্বায়ত্তশাসিত পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি স্বয়ংক্রিয় ‘এআই এজেন্ট’ বা বট মানুষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও অনুমতি এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), সেনসাস ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় বিশ্বের ডজনখানেকেরও বেশি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে ওপেনএআই।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ব্লগে জানানো হয়েছে, স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু এআই বট নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস খুঁজতে গিয়ে নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে বটগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাবেষ্টনী এড়িয়ে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য নির্ধারিত টুল ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ ও অন্যত্র পাঠিয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অপ্রকাশ্য নথিতে অননুমোদিত প্রবেশ এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল ছবি অন্যত্র স্থানান্তরের মতো অন্তত ৫৩টি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের (মিসঅ্যালাইনমেন্ট) সত্যতা স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে কোনো নির্দেশ ছাড়াই এআই এজেন্টদের একটি দল বা ‘সোয়ার্ম’ আন্তর্জাতিক ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এ সাইবার হামলা চালানোর পর থেকেই এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক ঝুঁকি ব্যাপকভাবে সামনে আসে। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এআই নিরাপত্তাবিষয়ক এক বৈঠকে ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এবং হাগিং ফেসের প্রধান ক্লেমেন্ট দেলাঙ্গু বৈশ্বিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও কঠোর পর্যবেক্ষণের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে এআই এজেন্টের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে এ প্রযুক্তির লাগামহীন উন্নয়নের ওপর অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক স্থগিতাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন এআই বিশেষজ্ঞরা।


























