প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন কনস্যুলেট জেনারেল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রধান বাণিজ্যিক হাব গুয়াংজো, জার্মানির আর্থিক রাজধানী ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং ব্রাজিলের প্রধান শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাও পাওলো শহরে এই তিনটি নতুন কূটনৈতিক মিশন স্থাপিত হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এসব মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বা নতুন পদ সৃজন, যানবাহন এবং দাপ্তরিক অফিস সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এর আগে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন এই কনস্যুলেটগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ লাভ করবেন।
দক্ষিণ চীনের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গুয়াংজো অঞ্চলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন মানসম্মত রপ্তানিপণ্য এই অঞ্চলের বাজারগুলোতে সমাদৃত। বর্তমানে বেইজিং ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশের মিশন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও গুয়াংজোর সঙ্গে ভৌগোলিক দূরত্ব বেশি থাকায় সেখানকার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল, যা এই নতুন কনস্যুলেটের মাধ্যমে সফলভাবে নিরসন করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরটি দেশটির অন্যতম প্রধান আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং একক দেশ হিসেবে জার্মানি তার মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাজার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো ছুঁয়েছিল। ফ্রাঙ্কফুর্টে নতুন কনস্যুলেট চালু হলে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও বহুলাংশে প্রসারিত হওয়ার দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অপরদিকে, ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরটি দেশটির প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বহুমুখী যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সাও পাওলোর কনস্যুলেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এখানে নতুন এই কূটনৈতিক মিশন চালু হওয়ার ফলে লাতিন আমেরিকার বিশাল বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রসারের পথ উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্রিকস (BRICS) এবং গ্লোবাল সাউথ সংক্রান্ত নানাবিধ ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ও জোরালো অবস্থান আরও সুদৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


























