Dhaka ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

দেশের সামগ্রিক জাতীয় সুরক্ষার ভিত সুদৃঢ় ও অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার গতিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে একটি সর্বাধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটি আধুনিক, সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে অপরিহার্য ও মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে।”

আজ বুধবার রাজধানীর অভিজাত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলরুমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যসমূহ ব্যক্ত করেন।

বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর সংযোগ ও উপস্থিতির উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে বহিঃবিশ্বের সাথে যেকোনো ঐতিহাসিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য বহুগুণ সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী নানাবিধ জটিল ঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করতে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন ও দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সীমান্ত পরিচালনায় সর্বাগ্রে জাতীয় নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণকারীদের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদানকে অত্যন্ত গতিশীল করে তুলতে হবে।” এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬–২০৩১’ এবং ‘পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬–২০৩১’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর সাধন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুকরণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সেবার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বা ডেটা আদান-প্রদান বৃদ্ধি করাই বর্তমান সরকারের মূল ও প্রধানতম প্রশাসনিক অগ্রাধিকার।”

দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিচালনায় বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অসামান্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সুনির্দিষ্ট নীতি এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের সকল বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর সার্বিক কার্যক্রমগত ও কাঠামোগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।” তিনি এ কথা পরিষ্কার করেন যে, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পাশাপাশি সীমান্ত পরিচালন প্রক্রিয়াকে সার্বিক মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আন্তর্জাতিক পেশাদার মানে উন্নীত করা আবশ্যক।

একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক মানবপাচার কঠোর হস্তে দমনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা একক কোনো সংস্থা বা দপ্তরের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর এবং সশস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ও যৌথ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি।”

আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নতুন পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত রূপরেখাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির উদাত্ত আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল আমাদের নিজস্ব সীমান্তকেই নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে না, বরং এটি পুরো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপদ বিশ্বায়নের ক্ষেত্রেও বিশাল অবদান রাখবে।”

অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, “আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহু উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ধরণ এবং মাঠপর্যায়ের কাজের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে কার্যকর কৌশলগত ব্যবস্থা, দক্ষ আধুনিক জনবল এবং সীমান্ত সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও নিবিড় ও উন্নত সমন্বয়ের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের এই প্রশাসনিক অগ্রাধিকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে আইওএম সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী।”

উক্ত আন্তর্জাতিক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার সম্মানিত হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিগত জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত সংস্কার রূপরেখার সাথে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে প্রণীত আন্তর্জাতিক এই নীতির আওতায় প্রধান চারটি মৌলিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—সার্বিকভাবে সমন্বিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, আন্তঃসংস্থার সুবিধার্থে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান অবকাঠামো গড়ে তোলা, দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং দেশের নির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর চেকপোস্টসমূহে আধুনিক আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সেবা শতভাগ সুনিশ্চিত করা।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশের সামগ্রিক জাতীয় সুরক্ষার ভিত সুদৃঢ় ও অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার গতিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে একটি সর্বাধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটি আধুনিক, সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে অপরিহার্য ও মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে।”

আজ বুধবার রাজধানীর অভিজাত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলরুমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যসমূহ ব্যক্ত করেন।

বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর সংযোগ ও উপস্থিতির উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে বহিঃবিশ্বের সাথে যেকোনো ঐতিহাসিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য বহুগুণ সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী নানাবিধ জটিল ঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করতে প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন ও দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সীমান্ত পরিচালনায় সর্বাগ্রে জাতীয় নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণকারীদের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদানকে অত্যন্ত গতিশীল করে তুলতে হবে।” এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬–২০৩১’ এবং ‘পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬–২০৩১’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর সাধন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুকরণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সেবার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বা ডেটা আদান-প্রদান বৃদ্ধি করাই বর্তমান সরকারের মূল ও প্রধানতম প্রশাসনিক অগ্রাধিকার।”

দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিচালনায় বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অসামান্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সুনির্দিষ্ট নীতি এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের সকল বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর সার্বিক কার্যক্রমগত ও কাঠামোগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।” তিনি এ কথা পরিষ্কার করেন যে, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পাশাপাশি সীমান্ত পরিচালন প্রক্রিয়াকে সার্বিক মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আন্তর্জাতিক পেশাদার মানে উন্নীত করা আবশ্যক।

একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক মানবপাচার কঠোর হস্তে দমনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা একক কোনো সংস্থা বা দপ্তরের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর এবং সশস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ও যৌথ প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি।”

আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নতুন পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত রূপরেখাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির উদাত্ত আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল আমাদের নিজস্ব সীমান্তকেই নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে না, বরং এটি পুরো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপদ বিশ্বায়নের ক্ষেত্রেও বিশাল অবদান রাখবে।”

অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, “আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহু উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ধরণ এবং মাঠপর্যায়ের কাজের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে কার্যকর কৌশলগত ব্যবস্থা, দক্ষ আধুনিক জনবল এবং সীমান্ত সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও নিবিড় ও উন্নত সমন্বয়ের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের এই প্রশাসনিক অগ্রাধিকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে আইওএম সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী।”

উক্ত আন্তর্জাতিক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার সম্মানিত হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিগত জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত সংস্কার রূপরেখার সাথে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে প্রণীত আন্তর্জাতিক এই নীতির আওতায় প্রধান চারটি মৌলিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—সার্বিকভাবে সমন্বিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, আন্তঃসংস্থার সুবিধার্থে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান অবকাঠামো গড়ে তোলা, দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং দেশের নির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর চেকপোস্টসমূহে আধুনিক আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সেবা শতভাগ সুনিশ্চিত করা।