কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা জানিয়েছেন, অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহাত শীলা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নাহিদা ম্যাডাম চান পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করুক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটকের প্রতিশোধ হিসেবেই তার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা উদঘাটিত হোক।
এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তਾਰের পর তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তদন্তে নতুন মোড় নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের দায়ের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার তুহিনকে হেফাজতে নেওয়ার সময় পুলিশ অপ্রতিমের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত ছিল না। পরবর্তীতে লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে। তবে অন্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে সে অনড় রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুহিনের মোবাইল ফোনে বারবার আসা কলের সূত্র ধরে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক কিশোরকে এবং পরবর্তীতে আরও একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আইফোন ও টাকা ধার নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


























