সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, শ্রমিক অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে পুঁজি করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। তবে সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের নাশকতামূলক ঘটনায় সাবেক ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, সম্প্রতি ঘটনাস্থل থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্টও দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির নানা অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা বিএনপি সবসময় সহনশীলতার নীতিতে বিশ্বাস করে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষ সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে। তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার দেখতে চেয়েছে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে এবং পেছনের দরজা দিয়ে বা চোরাইপথে ক্ষমতা দখলের কোনো সুযোগ জনগণ আর দেবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও জয়লাভের যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে জানান তিনি।


























