অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় সিরিজ জয় করা বাংলাদেশ দল নিজেদের চেনা উইকেটে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামলেও প্রথম টেস্টেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে এমন আত্মসমর্পণমূলক পারফরম্যান্স কেবল একটি হার নয়, বরং এটিকে ক্রিকেটীয় বড় অধঃপতন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ম্যাচে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে বারবার খেলা ব্যাহত হলেও চতুর্থ দিন দুপুরের আগেই লড়াই শেষ হয়ে যায়, যা দলের মানসিক প্রস্তুতি ও ক্রিকেটবোধ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করে, যার বড় অংশজুড়ে ছিল সাদমানের একা লড়াইয়ের সেঞ্চুরি। জবাবে উইন্ডিজ ২৪৫ রানে থামলে বাংলাদেশ ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায়। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতার কারণে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দল। চতুর্থ দিনের শুরুতেই দ্রুত উইকেট পতনের মিছিলে যোগ দেন জাকের আলি। শেষ পর্যন্ত পুরো দল মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায়। নাঈম হাসানের ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, দলের বড় বিপর্যয় রোধ করতে পারেনি।
বিশেষ করে ব্যাটারদের শট সিলেকশন ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী মিরাজের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও উইকেটে থিতু না হয়ে অপ্রয়োজনীয় ও বেপরোয়া শট খেলে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটের মৌলিক চাহিদা যে ধৈর্য এবং সঠিক টেকনিক, মাঠে তার চরম ঘাটতি দেখা গেছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ে পরিকল্পনা এবং ফিল্ডিংয়ে হাস্যকর ভুল পরাজয়ের ব্যবধানকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে।

























