মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তাঁকে দলের সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরাসরি অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর পূর্বে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে সভাপতি তাইজুল ইসলামের আপত্তিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিওচিত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকা জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
উপজেলা জামায়াত কর্তৃক প্রচারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে চরম নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের একটি অভিযোগ সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে ভাইরাল হয়েছে, যা শিবচর উপজেলা জামায়াত শাখার প্রত্যক্ষ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে দলীয় সার্বিক শৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখা এবং উত্থাপিত অভিযোগটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পর্যালোচনার স্বার্থে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সকল সাংগঠনিক দায়-দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগটির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হলে সংগঠনের নিজস্ব সংবিধান ও নিয়মাবলি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ঘটনাটির বিষয়ে নিজের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ লাইভ বা পোস্টে তাইজুল ইসলাম দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া উক্ত ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী প্রকৃতপক্ষে তাঁর আইনি দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু শিবচর উপজেলা জামায়াতের সুযোগ্য আমির সরোয়ার হোসেন মৃধা তাইজুলের এই মৌখিক দাবি পুরোপুরি নাকচ ও প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিডিওর ওই নারী কোনো অবস্থাতেই তাইজুলের বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী নন।
ঘটনাসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নিজ বাসভবনে তাইজুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্র পরদিন সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা গণমাধ্যমকে বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবরটি পাওয়ামাত্রই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাইজুলকে দলের সব কার্যক্রম থেকে সরাসরি অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।” তিনি তাঁর পিছনের পরিচয় তুলে ধরে আরও বলেন, “বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মূলত তাইজুল জামায়াতের সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দূরবর্তী নিলখী ইউনিয়নটি উপজেলা সদর থেকে তুলনামূলক অনেকটা দূরে হওয়ায় তাঁকে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাধারণ দাওয়াত ও প্রচার সম্পাদকীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। সেই দায়িত্ব পালনের সুবাদেই এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁকে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি পদে হিসেবে চিনতেন ও বিবেচনা করতেন।”
ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিলখী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মো. মিন্টু মাতুব্বর বলেন, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় কবিরাজি বা চিকিৎসাসেবা দিতেন এবং একই সাথে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় একটি মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বলেন, কবিরাজি চিকিৎসার অজুহাত ও প্রলোভন দেখিয়ে সরল নারীদের নিজের বাড়িতে ডেকে এনে নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত লিপ্ত হতেন এই তাইজুল।


























