রাজধানীর কদমতলীতে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ হোসাইন শরীফ ওরফে সোহেল (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও কোনো গণমাধ্যমে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তার গাড়িতে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার ও ক্যামেরা-বুম ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে এবং পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে আসা একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাস ঘেরাও করে অভিযান চালানো হয়। গাড়িটিতে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার লাগানো ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোসাইন শরীফ কোনো গণমাধ্যমে কর্মরত থাকার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরে তার গাড়ি এবং শরীর তল্লাশি করে মোট ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের পাশের বক্স থেকে ২১টি পলি প্যাকেটে ৪ হাজার ২০০ পিস এবং তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে আরও ৫টি প্যাকেটে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি ছাড়াও একটি প্যানাসনিক ভিডিও ক্যামেরা, দুটি বুম, তিনটি মোবাইল ফোন এবং এশিয়ান টেলিভিশনের একটি স্টিকার জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হোসাইন শরীফ স্বীকার করেছেন যে, তিনি আগে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে এই পেশা ছেড়ে ক্যামেরা, বুম ও গাড়িতে ‘প্রেস’ স্টিকার ব্যবহারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


























